
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তেলিগাতী ও পঞ্চকরন ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সুবরাতকাঠি খালে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা বাঁধ কেটে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এতে দুই গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ সরকার দুটি স্থানে বাঁধ কেটে খালটি উন্মুক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ ছিল।
খালটি তেলিগাতী ইউনিয়নের মিস্ত্রীডাঙ্গা ও পঞ্চকরনের দেবরাজ এলাকার মধ্য দিয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং ঘসিয়াখালী চ্যানেল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক যুগ ধরে ‘চিতালি ঘের’ নামে পরিচিত এলাকায় খালটি বাঁধ দিয়ে প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমিতে মৎস্য চাষ করা হচ্ছিল। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে দুই পাড়ের প্রায় ৫০০ পরিবার নিয়মিত জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়ত।
বাঁধ অপসারণের পর স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলেছে এবং পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, খালে বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং জলাবদ্ধতায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। এখন খাল উন্মুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকার বলেন, রেকর্ডীয় সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও মানুষের ভোগান্তির অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে খালে বাঁধ দিয়ে রাখা স্থাপনাগুলোও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন