
মডেলিং, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করে আসছেন জয়া আহসান। দেশের পাশাপাশি ভারতের কলকাতার চলচ্চিত্র অঙ্গনেও তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে দেওয়া তার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী ইলোরা গহর।
গত এপ্রিল মাসে এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান বলেছিলেন, মাছ-মাংস খেতে তার ভালো লাগে না। এসব খাবার খেতে গেলে তার মনে হয়, তিনি যেন কোনো প্রাণীকে হত্যা করছেন। জয়ার এই বক্তব্য নিয়েই প্রতিক্রিয়া জানান ইলোরা গহর।
এক সাক্ষাৎকারে ইলোরা বলেন, জয়া আহসান দীর্ঘদিন ধরে দুই বাংলায় সফলভাবে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন পুরস্কারও অর্জন করেছেন। তার মতে, জয়া ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে ক্যারিয়ার ও সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সে লক্ষ্য অর্জনেও সফল হয়েছেন।
তবে প্রাণী হত্যা প্রসঙ্গে জয়ার মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন বলে জানান ইলোরা। তিনি বলেন, অনেক মানুষই মাছ-মাংস খেতে পছন্দ করেন এবং এটি সমাজে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ। তার ভাষ্য, মাছ-মাংস খাওয়াকে ‘প্রাণী হত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয় এবং এ ধরনের মন্তব্য করার আগে দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিবেচনা করা উচিত।
ইলোরা গহর আরও বলেন, সমাজে এখনও অনেক মানুষ নানা ধরনের কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার বস্তি এলাকাগুলোতে গিয়ে তিনি মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখেছেন এবং শীতের সময় অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্রও বিতরণ করেছেন।
জয়া আহসানের উদ্দেশে তিনি বলেন, পশুপ্রেমের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণেও আরও বেশি কাজ করা যেতে পারে। তার মতে, সমাজের অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
ইলোরা আরও মন্তব্য করেন, জয়া হয়তো নীরবে অনেক সামাজিক কাজ করেন, যা সাধারণ মানুষ জানে না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে মাছ-মাংস খাওয়াকে ‘প্রাণী হত্যা’র সঙ্গে তুলনা করা তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তিনি বলেন, কেউ স্বাস্থ্যগত বা ব্যক্তিগত কারণে মাংস না খেতে পারেন, তবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
কুরবানি প্রসঙ্গ টেনে ইলোরা বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মীয় ও সামাজিক রীতির অংশ হিসেবে পশু কুরবানি দিয়ে থাকেন। তাই মাছ-মাংস খাওয়াকে সরাসরি ‘প্রাণী হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে।
নিজের পরিবারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বাবা কুরবানির বিরোধী ছিলেন, তবে তার মা কুরবানিতে অংশ নিতেন। এ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, কুরবানিকে পশু হত্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সবশেষে জয়া আহসানের প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে ইলোরা বলেন, জয়ার ফুল, গাছপালা ও প্রকৃতিপ্রীতি ইতিবাচক বিষয়। তবে পশুপ্রেম প্রকাশ করতে গিয়ে মাছ-মাংস খাওয়ার বিষয়টিকে ‘হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা সমীচীন নয় বলেই তিনি মনে করেন।
মন্তব্য করুন