বৃহস্পতিবার
১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর বড় ভরসা

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। নতুন অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান মেটাতে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই হিসাবে মোট বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

এই ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা জিডিপির ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ মোট ঘাটতির প্রায় ৬৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বিদেশি ঋণের মাধ্যমে পূরণের আশা করছে সরকার।

তবে বিদেশি ঋণের এ অর্থের মধ্যে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে পূর্ববর্তী ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে। ফলে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত হিসাবের তুলনায় ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৯৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। কিস্তি ও সুদ পরিশোধের পর নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৮ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতার ভূমিকায় অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থিক পুনরুদ্ধার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যমেয়াদে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দেশের ক্রেডিট রেটিং উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, অবশিষ্ট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়। একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে খালের বাঁধ কেটে জলাশয় উন্মুক্ত, স্বস্তি ৫শ’ পরিবারের

যশোরে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুইজন আটক

সুবিপ্রবির ভিসি পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি

বেনাপোলে বিএনপি কর্মীকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর বড় ভরসা

ভ্যাটের প্রভাবে বাড়তে পারে এলপিজির দাম

জয়া আহসানকে ধুয়ে দিলেন ইলোরা গহর

মোংলায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলা, আহত ৩

নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু করবে সরকার

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল

জুনের শেষ দিকে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বেনাপোল বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা

সৌদি আরবে প্রথমবার অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিল ভারত

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

হামলা বন্ধ করতে ইরানকে ২২ দেশের সতর্কবার্তা

মোবাইল ফোনে যেভাবে দেখবেন বিশ্বকাপের ম্যাচ

গ্রামীণফোনের মুনাফার ৫% লভ্যাংশ দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর

হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে রাজশাহীতে আলু বেচাকেনা বন্ধ

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

X