
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী মাছের বাজারও। এতে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) নওয়াপাড়া বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ৬০ টাকার নিচে প্রায় কোনো সবজিই মিলছে না। কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি ঢেঁড়স ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৬০ টাকা। মিষ্টিকুমড়া ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৩০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ২৫ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৮০ টাকা এবং বেগুন ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের একটি লাউ, যা আগে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে বাজারে শুধু পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম প্রতি কেজি ৪০ টাকা। ১০ দিন আগেও কাঁচামরিচের দাম ছিল ৮০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা কেজি।
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে। ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম পৌঁছেছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। এছাড়া পাঙাশ, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকার মধ্যে।
মাছ বিক্রেতা জহর বলেন, টানা বৃষ্টিতে যেসব জেলা থেকে চাষের মাছ আসে, সেখানে অনেক মাছ ভেসে গেছে। ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ইলিশের দাম কিছুটা কমলেও এ সপ্তাহে আবার বেড়েছে।
ক্রেতা সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, বাজারে এসে বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সবজি ব্যবসায়ী আল-আমিন, মুদি ব্যবসায়ী বাবুসহ একাধিক বিক্রেতা জানান, টানা বৃষ্টিতে মাঠের অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। ফলে আড়তে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কিছুটা দাম বাড়লেও এবার বৃদ্ধি অনেক বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, চলতি জুলাই মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৫০ হেক্টর সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৩৬০ জন সবজি চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাইরের জেলা থেকে সবজি এনে বাজারের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত মুনাফা না করে যৌক্তিক দামে মাছ ও সবজি বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমবে।
মন্তব্য করুন