
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদান। দিদিয়ে দেশমের বিদায়ের পর ফরাসি ফুটবলে শুরু হলো এক নতুন যুগ।
মঙ্গলবার প্যারিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো জিদানের নিয়োগের ঘোষণা দেন। কয়েক মাস ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সের দায়িত্ব পেলেন এই বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি।
২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ ছাড়ার পর থেকে কোনো ক্লাব বা জাতীয় দলের দায়িত্ব নেননি ৫৪ বছর বয়সী জিদান। এবার তিনি নিজের দেশের জাতীয় দলের ডাগআউটে ফিরছেন নতুন মিশন নিয়ে।
কোচ হিসেবে জিদানের সাফল্য ফুটবল ইতিহাসে অনন্য। তাঁর নেতৃত্বে রিয়াল মাদ্রিদ টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের বিরল কীর্তি গড়ে, যা আধুনিক ফুটবলে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
অন্যদিকে, বিদায়ী কোচ দিদিয়ে দেশম ২০১২ সাল থেকে এক যুগেরও বেশি সময় ফ্রান্স জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে, ২০২২ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে এবং ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও ফাইনাল খেলেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর দায়িত্ব ছাড়েন দেশম।
জিদান এখন সেই জায়গায় বসছেন। তিনি নিজেও খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সের হয়ে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করা, ২০০০ সালে ইউরো জয় এবং সেই বছরই ব্যালন ডি’অর জেতা। এসব অর্জন ফরাসি ফুটবলের সোনালি ইতিহাসে লেখা আছে। দেশের হয়ে ১০৮ ম্যাচে ৩১ গোল করা এই মাস্টারমাইন্ডের ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের প্যানেনকা গোল এবং মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে মারার ঘটনা এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে।
জিদানের অধীনে ফ্রান্সের প্রথম চ্যালেঞ্জ আসছে খুব শিগগিরই। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নেশন্স লিগে তাঁর দল মাঠে নামবে। ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে শুরু, তার তিন দিন পর বেলজিয়ামের বিপক্ষে লড়াই। এরপর ২ অক্টোবর ঘরের মাঠ স্টাদে দে ফ্রান্সে ইতালির মোকাবিলা করবে জিদানের শিষ্যরা।
মন্তব্য করুন