
মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা, হজমে সহায়তা করা এবং পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গটি। তাই লিভারকে সুস্থ রাখতে শুধু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, আবার কিছু খাবার দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
১. ওটস: ফাইবারসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর সকালের খাবার ওটস উচ্চমাত্রার ফাইবারসমৃদ্ধ একটি খাবার, যা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ওটস খেলে ওজন এবং পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। ফলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও কমতে পারে।
২. চর্বিযুক্ত ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গারসহ অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন এসব খাবার খেলে লিভারে প্রদাহ হতে পারে, যা পরবর্তীতে সিরোসিসের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. ব্রোকলি: লিভারের সুরক্ষায় কার্যকর সবজি ব্রোকলি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এটি মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) বা লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ব্রোকলি রাখা উপকারী।
৪. পরিমিত কফি পান করুন প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপ কফি পান লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসজনিত লিভারের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও কফির ইতিবাচক ভূমিকার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
৫. অতিরিক্ত চিনি থেকে সতর্ক থাকুন অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে লিভার অতিরিক্ত চর্বি তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে লিভারে জমে যেতে পারে। এর ফলে ফ্যাটি লিভার বা MASLD-এর মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
৬. গ্রিন টি: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের জন্য উপকারী। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি লিভার ক্যান্সারসহ কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্যাকেটজাত আইসড টি বা রেডি-টু-ড্রিঙ্ক গ্রিন টির তুলনায় তাজা গ্রিন টি বেশি উপকারী। বিশেষজ্ঞরা গ্রিন টি পরিমিত পরিমাণে পান করার পরামর্শ দেন।
৭. পালং শাক রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পালং শাকে রয়েছে গ্লুটাথায়ন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সহায়তা করে। এটি স্যুপ, ভাজি বা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর রান্নায় সহজেই যুক্ত করা যায়।
লিভার ভালো রাখতে করণীয় লিভারের সুস্থতা ধরে রাখতে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত, চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করলে লিভার দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।
মন্তব্য করুন