
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা ইরান পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (ISIS)-এর সহযোগিতায় নতুন স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কার্যকর থাকার সময়েই মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল। এর ফলে তেহরান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পারচিন সামরিক ও পরমাণু গবেষণা কমপ্লেক্সের ভূগর্ভস্থ ‘তালেঘান-২’ স্থাপনাটি ইরানি কর্তৃপক্ষ পুনরায় মেরামত করেছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, এই স্থাপনাটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য বিস্ফোরক উপাদান পরীক্ষা ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুন ও জুলাই মাসের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোমা হামলায় ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ছাদে তৈরি হওয়া তিনটি বড় গর্ত প্রথমে অস্থায়ীভাবে ঢেকে দেওয়া হয়। পরে কংক্রিট ও রিবার ব্যবহার করে স্থায়ীভাবে ছাদ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
এদিকে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামক আরেকটি সন্দেহভাজন টানেল কমপ্লেক্সে ভারী যানবাহনের যাতায়াত এবং কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারেও মেরামতের তৎপরতা দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, ইরানের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র যেমন—ইসফাহান, ফোরদো বা নাতাঞ্জে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো নতুন পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের প্রমাণ মেলেনি।
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, যেখানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক কিছু উত্তেজনার পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেন।
সিএনএনের দাবি, ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগেই ইরান গোপনে চুক্তি লঙ্ঘন করে মেরামত কাজ শুরু করেছিল।
এদিকে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
মন্তব্য করুন