
মানহানির অভিযোগে করা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী রেবেল উইলসন। বুধবার সিডনির একটি আদালত অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলা করার কারণে বাদী পক্ষকে উইলসনের আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলাটি করেছিলেন অস্ট্রেলীয় তরুণ অভিনেত্রী শার্লট ম্যাকইনেস। তিনি রেবেল উইলসনের চলচ্চিত্র ‘দ্য ডেব’-এ অভিনয় করেছেন। ম্যাকইনেসের অভিযোগ ছিল, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে রেবেল উইলসন তার সম্মান ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন।
ওই পোস্টগুলোতে উইলসন অভিযোগ করেছিলেন, চলচ্চিত্র প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির যে অভিযোগ ম্যাকইনেস করেছিলেন, পরবর্তীতে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সুবিধার জন্য সেই অভিযোগ থেকে সরে এসেছিলেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন ম্যাকইনেস। তার দাবি ছিল, উইলসনের এসব বক্তব্য তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বক্তব্যগুলো মানহানিকর।
বুধবার বিচারক এলিজাবেথ রেপার মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালত বলেন, ম্যাকইনেস ওই ঘটনা সম্পর্কে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন—এমন ইঙ্গিতকে মানহানিকর বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বিচারকের মতে, ঘটনাটি নিয়ে রেবেল উইলসনের বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মানহানির আইনি শর্ত পূরণ হয়নি।
রায়ের পর শার্লট ম্যাকইনেসকে রেবেল উইলসনের আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়। ওই সময় শার্লট ম্যাকইনেস ‘দ্য ডেব’ সিনেমার প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন।
সাঁতার কাটার সময় ঠান্ডা পানির কারণে ঘোস্টের শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর তারা প্রযোজকের ভাড়া নেওয়া একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যান। ঘোস্ট গোসল করতে গেলে ম্যাকইনেস তার জন্য বাথটাবে পানি ভরে দেন। পরে শরীর গরম করার জন্য ম্যাকইনেস নিজেও বাথটাবে নামেন। কিছুক্ষণ পর ঘোস্টও সেখানে যান। তখন দুজনের পরনেই সাঁতারের পোশাক ছিল। রায় ঘোষণার সময় বিচারক এলিজাবেথ রেপার এই ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।
রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর রেবেল উইলসন ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দেন। তিনি বলেন, পুরো আইনি প্রক্রিয়া তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। একই সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা তাকে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
উইলসন আরো বলেন, 'এটি আমাকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে এটি আমার দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাসকে আরও শক্ত করেছে। আমি যা সঠিক মনে করি, তার পক্ষেই দাঁড়িয়ে জীবন কাটাতে চাই। পাশাপাশি এমন কাজ করে যেতে চাই, যা মানুষের মুখে হাসি এনে দেয়।' উইলসন তার সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, 'এই অধ্যায় শেষ হওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।' তিনি আরো বলেন, 'মামলার বিচারক এবং অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। তাদের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।' এ ছাড়া তিনি বিচারক এলিজাবেথ রেপার এবং অস্ট্রেলিয়ার বিচারব্যবস্থার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
চলতি বছরের শুরুতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে রেবেল উইলসন দাবি করেন, বাথটাবের ঘটনার পরদিন শার্লট ম্যাকইনেস তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। উইলসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনেস তাকে জানিয়েছিলেন, আমান্ডা ঘোস্ট তাকে বাথটাবে নামতে এবং একসঙ্গে গোসল করতে বলেছিলেন, যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।
এরপর উইলসন আবার ম্যাকইনেসকে ফোন করেন এবং ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিস্তারিত জানতে চান। ওই ফোনালাপের পর তিনি আমান্ডা ঘোস্টকে একটি খুদে বার্তা পাঠান। আদালতে সেই বার্তাও উপস্থাপন করা হয়। সেখানে উইলসন লিখেছিলেন, শার্লট জানিয়েছেন সব ঠিক আছে। তিনি শুধু বলতে চেয়েছিলেন, পরিস্থিতিটি অদ্ভুত ছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি অস্বস্তি বোধ করেছেন—এমন কথা শার্লট বলেননি।
মামলার রায়ের পর এখন পর্যন্ত শার্লট ম্যাকইনেসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন